কাঁচা চালানে বিক্রয় ৬২১ কোটি, ভ্যাট ফাঁকি ৩৫.৬৫ কোটি

প্রকাশ: September 28, 2026




বিক্রয়সংক্রান্ত কাঁচা চালান পর্যালোচনা করে ৬২১ কোটি ৭৪ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৪ টাকার পণ্য বিক্রয়ের তথ্য পেয়েছে ঢাকা পূর্ব কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট।

এসব বিক্রয়ের বিপরীতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজারের প্রতিষ্ঠান জে আই ইমপেক্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ৩৫ কোটি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৮ টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে ভ্যাট বিভাগ।

রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভ্যাট ফাঁকির এমন অভিযোগে মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে এনবিআর এক সংবাদ বিবৃতিতে জানিয়েছে।

ভ্যাট বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা (পূর্ব) ভ্যাট বিভাগের একজন যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে সদর দপ্তর ও নরসিংদী ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত প্রিভেন্টিভ দল জে আই ইমপেক্স লিমিটেডে অভিযান চালায়। অভিযান শেষে মূসক ১২.৩-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক নথি ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১২টি ক্লিপ ফাইল, বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিলের ৯৮টি নথি, ২২টি প্লাস্টিক ফোল্ডার, একটি সিপিইউ, চারটি টালি খাতা, চারটি রেজিস্টার, ট্রাক ভাড়া সংক্রান্ত একটি বান্ডেল নথি, দুটি মেমো ফাইল, ট্রাকচালকদের খরচের ১০ বান্ডেল বিবরণী এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা কম্পিউটার প্রিন্টেড বিক্রয় দলিল রয়েছে।

পরে জব্দ করা এসব নথি পর্যালোচনা করে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাসভিত্তিক পণ্য সরবরাহের ৭২টি ফোল্ডার ও নথি পাওয়া যায়। এসব নথিতে থাকা কাঁচা চালান ও বিক্রয় তথ্য যাচাই-বাছাই করে ৬২১ কোটি ৭৪ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৪ টাকার বিক্রয়ের তথ্য শনাক্ত করা হয়।

ভ্যাট বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এসব বিক্রয়ের বিপরীতে ৩৫ কোটি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৮ টাকার মূসক ফাঁকি হয়েছে।

এনবিআর জানায়, জব্দ করা নথি পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে এই ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মূসক ফাঁকির মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।