পিইটি আমদানিতে বাংলাদেশকে শুল্ক দিচ্ছে ভারত

প্রকাশ: October 4, 2026




পাটজাত পণ্যের পর এবার বাংলাদেশ থেকে পলিইথিলিন টেরেফথালেট ফিল্ম (পিইটি) আমদানিতে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজ (ডিজিটিআর) বাংলাদেশি পিইটির ওপর পাঁচ বছরের জন্য টনপ্রতি সর্বোচ্চ ২১৮ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের সুপারিশ করেছে।

খাদ্য, ওষুধ ও ভোগ্যপণ্যের নমনীয় প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের শিট তৈরিতে পিইটি ফিল্মের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক ও বিভিন্ন শিল্প খাতেও এর ব্যবহার রয়েছে।

ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করলে প্রস্তাবিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক কার্যকর হবে।

এর কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশি পাটজাত পণ্যের ওপর টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক এবং পাটের ওপর টনপ্রতি সর্বোচ্চ ১৪০ দশমিক ০৪ ডলার কাউন্টারভেইলিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। এর পরপরই বাংলাদেশি পিইটি আমদানিতে শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হলো।

পিইটি ফিল্মও এই বাণিজ্য ব্যবস্থার আওতায় এলে ভারতে এ ধরনের শুল্কের মুখে পড়া বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা পাঁচটিতে দাঁড়াবে।

ডিজিটিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পিইটি ফিল্ম রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ১২ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ২ হাজার ৭৬৩ টনে দাঁড়িয়েছে, যা ভারতের মোট পিইটি ফিল্ম আমদানির প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

ওই সময়ে চীন থেকে ভারতে ২৬ হাজার ৮৬ টন এবং থাইল্যান্ড থেকে ১২ হাজার ৮৭০ টন পিইটি ফিল্ম রপ্তানি হয়েছে।

ডিজিটিআর জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে আকিজের পিইটির বিক্রয়মূল্য উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম ছিল। এ কারণে স্থানীয় বিক্রয়মূল্যের পরিবর্তে কোম্পানিটির উৎপাদন ব্যয়ের ভিত্তিতে পণ্যটির স্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ, চীন ও থাইল্যান্ড থেকে পিইটি আমদানি নিয়ে করা তদন্তের ২৯ সেপ্টেম্বরের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বেশিরভাগ বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি করা পিইটি ফিল্মের ওপর টনপ্রতি ২১৮ ডলার শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তে চীনা উৎপাদনকারীদের সহযোগিতার মাত্রার ভিত্তিতে টনপ্রতি ৫৪ থেকে ৩৬১ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ হতে পারে। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে শুল্কের হার হতে পারে টনপ্রতি ১৯৮ থেকে ৩৬৬ ডলার।

ডিজিটিআর বলেছে, বাংলাদেশ, চীন ও থাইল্যান্ড থেকে ডাম্পিং করা পিইটি আমদানির কারণে ভারতীয় উৎপাদনকারীদের পণ্যের দাম কমেছে। এতে দেশটির স্থানীয় শিল্প বস্তুগত ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশের আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেডের জন্য অবশ্য তুলনামূলক কম টনপ্রতি ৫৮ ডলার শুল্কহার নির্ধারণ করেছে ডিজিটিআর। আকিজবশির গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এই কোম্পানিটিই বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যা তদন্তে সহযোগিতা করেছে।

তবে রপ্তানি প্রণোদনার কারণে আকিজের রপ্তানি মূল্য সমন্বয়ের দাবি গ্রহণ করেনি ডিজিটিআর। সংস্থাটির বক্তব্য, ওই দাবি ভারতে সরবরাহ করা পণ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

ভারতীয় পিইটি উৎপাদনকারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু করে ডিজিটিআর। চেরিপাল পলি ফিল্মস, ইস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ ও ভ্যাকমেট ইন্ডিয়ার আবেদনের পর ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত শুরু হয়।

প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ, চীন, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রকে তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছিল। তবে স্থানীয় শিল্পের পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর প্রাথমিক পর্যায়েই যুক্তরাষ্ট্রকে তদন্ত থেকে বাদ দেওয়া হয়।

তদন্তে ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত আমদানি পর্যালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাম্পিংয়ের কারণে ক্ষতির মূল্যায়নে ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

উৎপাদকভেদে ভিন্ন ভিন্ন শুল্কহার নির্ধারণের ফলে ভারতীয় ক্রেতারা বাংলাদেশ, চীন ও থাইল্যান্ডের রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও পণ্য সংগ্রহের বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করতে পারেন।